ঢাকা ০৮:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শ্রীমঙ্গলে সাংবদকর্মী খেয়ে ফেলছে ডিসি এসপি’র চাকরি! ‌সংবাদ সম্মেলনে ছোট বোনের অভিযোগ

89

শ্রীমঙ্গলে সাংবাদকর্মী খেয়ে ফেলছে ডিসি-এসপি’র চাকরি!’ এমন অভিযোগ করে সংবাদ সম্মেলন করেন কথিত সাংবাদকর্মী এর ছোট বোন উপজেলার সদর ইউনিয়নের নোয়াগাঁ এলাকার মৃত এরশাদুর রহমান আরজুর কন্যা মল্লিকা আক্তার (৩৩)।

বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে মল্লিকা আক্তার অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন সিলেট শহরে সিএনজি অটোরিক্সা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা বড় ভাই সৈয়দ সিরাজুল ইসলাম হাসান গত কয়েক বছর আগে চতুর্থ বউ নিয়ে আমার বসতবাড়িতে এসে আশ্রয় নেয়। ৫ম শ্রেণী পাশ কিন্তু মেট্রিক পাসের জাল সনদ এনে আমার ভাই হঠাৎ করে সাংবাদকর্মীর পরিচয় দেয়া শুরু করেন। সাংবাদিকতার ক্ষমতা দেখিয়ে তিনি আশ্রিত থাকা অবস্থায় আমার বসতভিটা দখল করতে চেষ্টা করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন,সিরাজুল ইসলাম হাসান সম্পত্তির লোভে প্রায় সময় বাড়ীতে এসে আমাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করছে। কলেজ পড়ুয়া দুই মেয়ে কলেজে গেলে পথে দুষ্ট ছেলেদের লেলিয়ে মেয়েদের উত্যক্ত করছে।’ এ নিয়ে একাধিকবার এলাকার মুরুব্বির মাধ্যমে বিচার সালিশ বসলেও সে কারো কোন বিচার সালিশ মানে নাই। তিনি প্রকাশ্যে বলে বেড়ান ‘তার অনেক ক্ষমতা- ইচ্ছে করলে তিনি ডিসি- এসপি -ওসি’র চাকরি খেয়ে দিতে পারেন।’ মানুষকে সাংবাদিকতার ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজীতে লিপ্ত। চাঁদা না দিলে খবর প্রকাশের ভয় দেখিয়ে ব্লাকমেইল করে এলাকার অসহায় মানুষকে হয়রানী করে বেড়াচ্ছে।

মল্লিকা আক্তার অভিযোগ করেন- গত ৪ জুলাই সিরাজুল ইসলাম হাসান আমার ওপর আক্রমন চালিয়ে নির্যাতন করেন। আমার চুলের মুঠি ধরে মাটিতে ফেলে কিল, ঘুষি, লাথি মেরে অকথ্য নির্যাতন করে। এসময়  পড়নের কাপড় চোপড় ধরে টানাহেছড়া করে শ্লীলতাহানি করে ঘরের আসবাবপত্র ভাংচুর করে ১৬ আনা ওজনের স্বর্ণের ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এনিয়ে পরদিন ৫ জুলাই মৌলভীবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করার কথাও জানান তিনি।

সাংবাদ সম্মেলনে মল্লিকা আক্তার নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তাহীনতায় প্রশাসন এর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সাংবাদ সম্মেলনে মল্লিকা আক্তারের স্বামী ও এক সন্তান উপস্থিত ছিলেন।
জানতে চাইলে সৈয়দ সিরাজুল ইসলাম হাসান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন তার বোন- প্রায় দিন ভগ্নিপতি মাদক সেবন করে বাড়িতে অশান্তি সৃষ্টি করে। এতে প্রতিবাদ করায় আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছে। জায়গার মালিকানার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি তার ছোট ভাই আল আমিনকে জিজ্ঞেস করতে বলেন। আল আমিন জানায়, মায়ের নামে এই জায়গা  ক্রয়ে বেশীরভাগ টাকার যোগান বড় বোন মল্লিকারই ছিল।
এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান,ডিসি অফিসে মিটিং-এ রয়েছি। মিটিং শেষ করে এ বিষয়ে জেনে আইনগত ব্যবস্হা নেয়া হবে বলে জানান।

ট্যাগ:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক তথ্য সম্পর্কে

জনপ্রিয়

শ্রীমঙ্গলে আইনি প্রক্রিয়ায় নিলামে কেনা জমির দখল নেওয়ার পাঁয়তারা ও অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

শ্রীমঙ্গলে সাংবদকর্মী খেয়ে ফেলছে ডিসি এসপি’র চাকরি! ‌সংবাদ সম্মেলনে ছোট বোনের অভিযোগ

প্রকাশিত সময় : ০৯:১৪:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬
89

শ্রীমঙ্গলে সাংবাদকর্মী খেয়ে ফেলছে ডিসি-এসপি’র চাকরি!’ এমন অভিযোগ করে সংবাদ সম্মেলন করেন কথিত সাংবাদকর্মী এর ছোট বোন উপজেলার সদর ইউনিয়নের নোয়াগাঁ এলাকার মৃত এরশাদুর রহমান আরজুর কন্যা মল্লিকা আক্তার (৩৩)।

বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে মল্লিকা আক্তার অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন সিলেট শহরে সিএনজি অটোরিক্সা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা বড় ভাই সৈয়দ সিরাজুল ইসলাম হাসান গত কয়েক বছর আগে চতুর্থ বউ নিয়ে আমার বসতবাড়িতে এসে আশ্রয় নেয়। ৫ম শ্রেণী পাশ কিন্তু মেট্রিক পাসের জাল সনদ এনে আমার ভাই হঠাৎ করে সাংবাদকর্মীর পরিচয় দেয়া শুরু করেন। সাংবাদিকতার ক্ষমতা দেখিয়ে তিনি আশ্রিত থাকা অবস্থায় আমার বসতভিটা দখল করতে চেষ্টা করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন,সিরাজুল ইসলাম হাসান সম্পত্তির লোভে প্রায় সময় বাড়ীতে এসে আমাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করছে। কলেজ পড়ুয়া দুই মেয়ে কলেজে গেলে পথে দুষ্ট ছেলেদের লেলিয়ে মেয়েদের উত্যক্ত করছে।’ এ নিয়ে একাধিকবার এলাকার মুরুব্বির মাধ্যমে বিচার সালিশ বসলেও সে কারো কোন বিচার সালিশ মানে নাই। তিনি প্রকাশ্যে বলে বেড়ান ‘তার অনেক ক্ষমতা- ইচ্ছে করলে তিনি ডিসি- এসপি -ওসি’র চাকরি খেয়ে দিতে পারেন।’ মানুষকে সাংবাদিকতার ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজীতে লিপ্ত। চাঁদা না দিলে খবর প্রকাশের ভয় দেখিয়ে ব্লাকমেইল করে এলাকার অসহায় মানুষকে হয়রানী করে বেড়াচ্ছে।

মল্লিকা আক্তার অভিযোগ করেন- গত ৪ জুলাই সিরাজুল ইসলাম হাসান আমার ওপর আক্রমন চালিয়ে নির্যাতন করেন। আমার চুলের মুঠি ধরে মাটিতে ফেলে কিল, ঘুষি, লাথি মেরে অকথ্য নির্যাতন করে। এসময়  পড়নের কাপড় চোপড় ধরে টানাহেছড়া করে শ্লীলতাহানি করে ঘরের আসবাবপত্র ভাংচুর করে ১৬ আনা ওজনের স্বর্ণের ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এনিয়ে পরদিন ৫ জুলাই মৌলভীবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করার কথাও জানান তিনি।

সাংবাদ সম্মেলনে মল্লিকা আক্তার নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তাহীনতায় প্রশাসন এর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সাংবাদ সম্মেলনে মল্লিকা আক্তারের স্বামী ও এক সন্তান উপস্থিত ছিলেন।
জানতে চাইলে সৈয়দ সিরাজুল ইসলাম হাসান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন তার বোন- প্রায় দিন ভগ্নিপতি মাদক সেবন করে বাড়িতে অশান্তি সৃষ্টি করে। এতে প্রতিবাদ করায় আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছে। জায়গার মালিকানার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি তার ছোট ভাই আল আমিনকে জিজ্ঞেস করতে বলেন। আল আমিন জানায়, মায়ের নামে এই জায়গা  ক্রয়ে বেশীরভাগ টাকার যোগান বড় বোন মল্লিকারই ছিল।
এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান,ডিসি অফিসে মিটিং-এ রয়েছি। মিটিং শেষ করে এ বিষয়ে জেনে আইনগত ব্যবস্হা নেয়া হবে বলে জানান।