ঢাকা ০৭:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শ্রীমঙ্গলে শ্রমিকদের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ সাংবাদিকসহ আহত-১৬

  • ইমরান হোসেন
  • প্রকাশিত সময় : ০২:০৯:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
  • ২৬২ টাইম ভিউ
291

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে শ্রমিকদের দুই গ্রুপের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনায় তিন সাংবাদিকসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৯ মে) বিকেলে শহরের চৌমুহনা এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুরো শহরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং কয়েক ঘণ্টা ধরে অচল হয়ে পড়ে ঢাকা–সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়ক।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পূর্বের বিরোধ ও কথাকাটাকাটির জের ধরে বিকেলে হঠাৎ দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে উভয় গ্রুপের লোকজন দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। সংঘর্ষ চলাকালে আশপাশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দ্রুত বন্ধ হয়ে যায় এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছোটাছুটি করতে থাকেন।


ঘটনাস্থলে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে তিন সাংবাদিক আহত হন। স্থানীয়রা জানান, সংঘর্ষ চলাকালে নির্বিচারে হামলার কারণে সাংবাদিকরাও রেহাই পাননি। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
সংঘর্ষের কারণে শহরের চৌমুহনা, ভানুগাছ সড়ক ও ঢাকা–সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। প্রায় তিন থেকে চার ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকায় শত শত যানবাহন সড়কে আটকা পড়ে। এতে দূরপাল্লার যাত্রী, রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স এবং সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উভয় পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়। শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, “বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে। তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান বলেন, “সংঘর্ষে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। কোনো ধরনের সহিংসতা বরদাশত করা হবে না। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, “আমি উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত পরিস্থিতি সমাধানের চেষ্টা চলছে।”
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, শ্রমিক সংগঠনগুলোর অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা বারবার ঘটছে। তারা দ্রুত স্থায়ী সমাধান ও প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন

ট্যাগ:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক তথ্য সম্পর্কে

অনুসন্ধানী সাংবাদিক এহসানের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের জরুরি সভা, বিবৃতি ও কর্মসূচির ডাক

শ্রীমঙ্গলে শ্রমিকদের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ সাংবাদিকসহ আহত-১৬

প্রকাশিত সময় : ০২:০৯:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
291

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে শ্রমিকদের দুই গ্রুপের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনায় তিন সাংবাদিকসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৯ মে) বিকেলে শহরের চৌমুহনা এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুরো শহরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং কয়েক ঘণ্টা ধরে অচল হয়ে পড়ে ঢাকা–সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়ক।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পূর্বের বিরোধ ও কথাকাটাকাটির জের ধরে বিকেলে হঠাৎ দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে উভয় গ্রুপের লোকজন দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। সংঘর্ষ চলাকালে আশপাশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দ্রুত বন্ধ হয়ে যায় এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছোটাছুটি করতে থাকেন।


ঘটনাস্থলে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে তিন সাংবাদিক আহত হন। স্থানীয়রা জানান, সংঘর্ষ চলাকালে নির্বিচারে হামলার কারণে সাংবাদিকরাও রেহাই পাননি। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
সংঘর্ষের কারণে শহরের চৌমুহনা, ভানুগাছ সড়ক ও ঢাকা–সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। প্রায় তিন থেকে চার ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকায় শত শত যানবাহন সড়কে আটকা পড়ে। এতে দূরপাল্লার যাত্রী, রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স এবং সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উভয় পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়। শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, “বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে। তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান বলেন, “সংঘর্ষে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। কোনো ধরনের সহিংসতা বরদাশত করা হবে না। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, “আমি উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত পরিস্থিতি সমাধানের চেষ্টা চলছে।”
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, শ্রমিক সংগঠনগুলোর অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা বারবার ঘটছে। তারা দ্রুত স্থায়ী সমাধান ও প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন