নরুল ইসলাম : মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের অতি পরিচিত মুখ, বাঁশির সুরে আনন্দ ছড়ানো কৃতি সন্তান ‘বংশী বাউল’ মদিনা আর নেই। বুধবার (১৫ এপ্রিল) দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টায় উপজেলার ভেড়াছড়া গ্রামে নিজ বাড়িতে স্ট্রোকজনিত কারণে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭০ বছর।
বিস্ময়কর বিষয় হলো, মৃত্যুর আগের দিনও অর্থাৎ পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে উপজেলার উত্তর বালিগাঁওসহ বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তিনি সক্রিয় ছিলেন। শেষ সময় পর্যন্ত নিজ ঢঙে বাঁশি বাজিয়ে আর গান গেয়ে দর্শকদের মাতিয়ে রেখেছিলেন তিনি। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মানুষকে বিনোদন দিয়ে যাওয়ার এই বিরল দৃষ্টান্ত স্থানীয়দের চোখে জল এনে দিয়েছে।
বংশী বাউল মদিনা কেবল একজন বংশীবাদকই ছিলেন না, তিনি ছিলেন কমলগঞ্জের লোকজ সংস্কৃতির এক জীবন্ত চরিত্র। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে তিনি বাঁশি বাজিয়ে গান পরিবেশন, ছোটখাটো সার্কাস প্রদর্শন এবং জাদুকরী কৌশলে মানুষকে আনন্দ দিয়ে আসছিলেন। বিশেষ করে একটি কয়েন থেকে অনেকগুলো কয়েন তৈরি করার তাঁর ম্যাজিকটি শিশু-কিশোরদের কাছে ছিল অত্যন্ত জনপ্রিয়।
সাদা মনের এই মানুষটি জীবিকার তাগিদে কখনো আইসক্রিম, কখনো বাদাম বা আচার বিক্রি করতেন। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেক, বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমানের স্মৃতিসৌধ কিংবা হামহাম জলপ্রপাতের মতো পর্যটন এলাকায় তাঁর বাঁশির সুর পর্যটকদের মুগ্ধ করত। হাসিখুশি মদিনা ভাইকে দেখলেই যে কেউ অনুরোধ করতেন সুর শোনানোর জন্য, আর তিনি কখনোই কাউকে নিরাশ করতেন না।
মদিনার প্রয়াণে কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল এলাকার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এলাকার সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিশিষ্টজনেরা তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন। বিনোদনপ্রিয় এই নিভৃতচারী শিল্পীকে হারিয়ে শোকাতুর সবাই আজ মনে করছেন সেই সুরের কথা, যা আর কোনোদিন মেঠোপথে কিংবা পর্যটন কেন্দ্রে শোনা যাবে না।
তাঁর পরিবার ও স্বজনেরা তাঁর জন্য দোয়া চেয়েছেন,যেন মহান রাব্বুল আলামিন তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করেন।
নরুল ইসলাম 









