ঢাকা ০৬:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জ্বালানি তেলের দাম ৯ মাসে লিটারে বেড়েছে ৪৩ টাকা পর্যন্ত

  • প্রতিনিধি নাম
  • প্রকাশিত সময় : ১১:২৬:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৪৪ টাইম ভিউ
60

ডেস্ক নিউজ : চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কয়েক দফায় বাড়ানো হয়েছে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম। সবশেষ সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) থেকে চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বৃদ্ধি কার্যকর হয়েছে। বৃদ্ধির এ হার সর্বোচ্চ প্রায় ৩৬ শতাংশ পর্যন্ত।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রতি লিটার ডিজেল ১০২ টাকা, কেরোসিন ১১৪ টাকা, পেট্রোল ১১৮ টাকা এবং অকটেন ১২২ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। সেপ্টেম্বরে সবশেষ নির্ধারিত দরে ডিজেল ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা ও অকটেন ১৬৫ টাকা।

অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ৩৩ টাকা বা ৩২ দশমিক ৩৫ শতাংশ, কেরোসিন ৪১ টাকা বা ৩৫ দশমিক ৯৬ শতাংশ, পেট্রোল ৪২ টাকা বা ৩৫ দশমিক ৫৯ শতাংশ ও অকটেন ৪৩ টাকা বা ৩৫ দশমিক ২৫ শতাংশ বেড়েছে।

টাকার হিসাবে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে অকটেনের দাম। প্রতি লিটারে এর দাম বেড়েছে ৪৩ টাকা। সব মিলিয়ে জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশের প্রধান চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে প্রায় ৩২ থেকে ৩৬ শতাংশ পর্যন্ত।

 

ব্যবস্থা নিতে হবে।-অধ্যাপক এম এম আকাশ

তিনি বলেন, ‘সরকার যদি মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে চায় তাহলে জিনিসপত্রের সরবরাহ বা সাপ্লাই বাড়াতে হবে। এখন এটি করতে গেলেও তো জিনিসপত্রের সরবরাহ খরচ বেড়ে যাবে। সুতরাং, শুধু এই কথা বললে হবে না যে জিনিসপত্রের পাল্টা উৎপাদন দিয়ে আমরা মুদ্রাস্ফীতি কমিয়ে আনবো। কারণ, পাল্টা উৎপাদনের উৎপাদন খরচও তখন বেড়ে যাবে। এজন্য শুধু পাল্টা উৎপাদন করেই হবে না, যদি না উৎপাদনশীলতা বাড়ে। তাই উৎপাদনশীলতা বাড়িয়ে খরচ কমাতে পারলে মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে ফাইট করা যাবে।’

বিজ্ঞাপন

উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পুঁজি লাগবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এখন যদি ঋণে সুদের হার কিছুটা কমিয়ে দেয় তাহলে ঋণ দিয়ে উৎপাদন করা যাবে। কিন্তু ঋণ নিয়ে যদি লুটপাট করে তাহলে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।’

এই অর্থনীতিবিদ বলেন, ‘এত কিছু করার পরেও অনেক লোক বেকার আছে এবং তাদের আয় নেই। তারা নিঃশেষ হয়ে যাবে। যারা আধা ডুবন্ত ছিল তারা ডুবে যাবে। গরিব আরও গরিব হবে। সেজন্য তাদের জন্য সামাজিক সুরক্ষার ব্যবস্থা নিতে হবে।’

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) পরিচালক (পেট্রোলিয়াম) ও সরকারের যুগ্মসচিব ড. মো. দিদারুল আলম জাগো নিউজকে বলেন, ‘সরকার অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ প্রাইসিংয়ের অধীনে তেল দাম নির্ধারণ করে। এটা নির্ধারণের ক্ষমতা সরকারের হাতে। বিইআরসি শুধু বিদ্যুৎ, গ্যাস, ফার্নেস অয়েল ও জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণ করে।’

পরিবহন খাতে অরাজকতা তৈরি হবে..
সরকার বাধ্য হয়ে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে।
হয়তো এছাড়া আর সরকারের কোনো উপায় ছিল না।
এখন মুশকিলটা হচ্ছে এই সুযোগে পরিবহন খাতে অরাজকতা 
তৈরি হবে-জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসে

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘সরকার বাধ্য হয়ে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে। হয়তো এছাড়া আর সরকারের কোনো উপায় ছিল না। এখন মুশকিলটা হচ্ছে এই সুযোগে পরিবহন খাতে অরাজকতা তৈরি হবে। এই সুযোগটা দেওয়া যাবে না।’

‘এর ফর্মুলা সরকারকে করতে হবে যে, কত টাকা দাম বাড়লে বা কমলে পরিবহন ভাড়া কী পরিমাণ বাড়বে বা কমবে। এই অটো ফর্মুলা সরকার করেনি, এটা করার উদ্যোগ নিতে হবে।’

এই জ্বালানি বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘মূল্যস্ফীতি বাড়বে, তবে এটা বাড়তে কিছুটা সময় লাগবে। পরিবহন সেক্টরটা মনিটরিংয়ের অধীনে আনতে হবে। ট্রাম্প তো বলেছে… নভেম্বরের যুদ্ধ থেমে যাবে। তখন বৈশ্বিক পরিস্থিতি শান্ত হলে হয়তো দাম কমবে। আমরা সেই আশা করবো।

 

সূত্র- জাগো নিউজ।

ট্যাগ:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক তথ্য সম্পর্কে

জনপ্রিয়

শ্রীমঙ্গলে আইনি প্রক্রিয়ায় নিলামে কেনা জমির দখল নেওয়ার পাঁয়তারা ও অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

জ্বালানি তেলের দাম ৯ মাসে লিটারে বেড়েছে ৪৩ টাকা পর্যন্ত

প্রকাশিত সময় : ১১:২৬:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
60

ডেস্ক নিউজ : চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কয়েক দফায় বাড়ানো হয়েছে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম। সবশেষ সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) থেকে চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বৃদ্ধি কার্যকর হয়েছে। বৃদ্ধির এ হার সর্বোচ্চ প্রায় ৩৬ শতাংশ পর্যন্ত।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রতি লিটার ডিজেল ১০২ টাকা, কেরোসিন ১১৪ টাকা, পেট্রোল ১১৮ টাকা এবং অকটেন ১২২ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। সেপ্টেম্বরে সবশেষ নির্ধারিত দরে ডিজেল ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা ও অকটেন ১৬৫ টাকা।

অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ৩৩ টাকা বা ৩২ দশমিক ৩৫ শতাংশ, কেরোসিন ৪১ টাকা বা ৩৫ দশমিক ৯৬ শতাংশ, পেট্রোল ৪২ টাকা বা ৩৫ দশমিক ৫৯ শতাংশ ও অকটেন ৪৩ টাকা বা ৩৫ দশমিক ২৫ শতাংশ বেড়েছে।

টাকার হিসাবে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে অকটেনের দাম। প্রতি লিটারে এর দাম বেড়েছে ৪৩ টাকা। সব মিলিয়ে জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশের প্রধান চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে প্রায় ৩২ থেকে ৩৬ শতাংশ পর্যন্ত।

 

ব্যবস্থা নিতে হবে।-অধ্যাপক এম এম আকাশ

তিনি বলেন, ‘সরকার যদি মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে চায় তাহলে জিনিসপত্রের সরবরাহ বা সাপ্লাই বাড়াতে হবে। এখন এটি করতে গেলেও তো জিনিসপত্রের সরবরাহ খরচ বেড়ে যাবে। সুতরাং, শুধু এই কথা বললে হবে না যে জিনিসপত্রের পাল্টা উৎপাদন দিয়ে আমরা মুদ্রাস্ফীতি কমিয়ে আনবো। কারণ, পাল্টা উৎপাদনের উৎপাদন খরচও তখন বেড়ে যাবে। এজন্য শুধু পাল্টা উৎপাদন করেই হবে না, যদি না উৎপাদনশীলতা বাড়ে। তাই উৎপাদনশীলতা বাড়িয়ে খরচ কমাতে পারলে মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে ফাইট করা যাবে।’

বিজ্ঞাপন

উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পুঁজি লাগবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এখন যদি ঋণে সুদের হার কিছুটা কমিয়ে দেয় তাহলে ঋণ দিয়ে উৎপাদন করা যাবে। কিন্তু ঋণ নিয়ে যদি লুটপাট করে তাহলে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।’

এই অর্থনীতিবিদ বলেন, ‘এত কিছু করার পরেও অনেক লোক বেকার আছে এবং তাদের আয় নেই। তারা নিঃশেষ হয়ে যাবে। যারা আধা ডুবন্ত ছিল তারা ডুবে যাবে। গরিব আরও গরিব হবে। সেজন্য তাদের জন্য সামাজিক সুরক্ষার ব্যবস্থা নিতে হবে।’

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) পরিচালক (পেট্রোলিয়াম) ও সরকারের যুগ্মসচিব ড. মো. দিদারুল আলম জাগো নিউজকে বলেন, ‘সরকার অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ প্রাইসিংয়ের অধীনে তেল দাম নির্ধারণ করে। এটা নির্ধারণের ক্ষমতা সরকারের হাতে। বিইআরসি শুধু বিদ্যুৎ, গ্যাস, ফার্নেস অয়েল ও জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণ করে।’

পরিবহন খাতে অরাজকতা তৈরি হবে..
সরকার বাধ্য হয়ে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে।
হয়তো এছাড়া আর সরকারের কোনো উপায় ছিল না।
এখন মুশকিলটা হচ্ছে এই সুযোগে পরিবহন খাতে অরাজকতা 
তৈরি হবে-জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসে

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘সরকার বাধ্য হয়ে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে। হয়তো এছাড়া আর সরকারের কোনো উপায় ছিল না। এখন মুশকিলটা হচ্ছে এই সুযোগে পরিবহন খাতে অরাজকতা তৈরি হবে। এই সুযোগটা দেওয়া যাবে না।’

‘এর ফর্মুলা সরকারকে করতে হবে যে, কত টাকা দাম বাড়লে বা কমলে পরিবহন ভাড়া কী পরিমাণ বাড়বে বা কমবে। এই অটো ফর্মুলা সরকার করেনি, এটা করার উদ্যোগ নিতে হবে।’

এই জ্বালানি বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘মূল্যস্ফীতি বাড়বে, তবে এটা বাড়তে কিছুটা সময় লাগবে। পরিবহন সেক্টরটা মনিটরিংয়ের অধীনে আনতে হবে। ট্রাম্প তো বলেছে… নভেম্বরের যুদ্ধ থেমে যাবে। তখন বৈশ্বিক পরিস্থিতি শান্ত হলে হয়তো দাম কমবে। আমরা সেই আশা করবো।

 

সূত্র- জাগো নিউজ।