ঢাকা ০৭:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কমলগঞ্জে হাত বাড়ালেই মিলছে ইয়াবা: বাড়ছে চুরি,ধ্বংসের মুখে যুবসমাজ

  • প্রতিনিধি নাম
  • প্রকাশিত সময় : ০২:৩০:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
  • ২৩৯ টাইম ভিউ
269

কমলগঞ্জ : মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে মরণনেশা ইয়াবার বিস্তার। উপজেলার পৌর এলাকা থেকে শুরু করে প্রতিটি ইউনিয়নে গড়ে উঠেছে মাদক বিক্রির শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। বর্তমানে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, প্রত্যন্ত অঞ্চলেও ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যাচ্ছে ‘হট কেকের’ মতো। হাতের নাগালে মাদক পেয়ে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও তরুণ প্রজন্ম এই মরণনেশায় আসক্ত হয়ে পড়ছে। আর নেশার টাকা জোগাড় করতে উপজেলায় জ্যামিতিক হারে বাড়ছে চুরির ঘটনা, যা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকে চরম হুমকির মুখে ফেলেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কমলগঞ্জে মাদক সিন্ডিকেটের বিপণন কৌশলে এসেছে বড় পরিবর্তন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে মাদক কারবারিরা সাধারণ ও শ্রমজীবী মানুষের পেশাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে।

উপজেলার বিভিন্ন স্পটে রিকশাচালক,হকার ও দিনমজুরদের একটি অংশ এখন ইয়াবা বহনের মূল চালিকাশক্তি। রিকশায় যাত্রী বহনের আড়ালে, কিংবা রাস্তায় ঘুরে ঘুরে পণ্য বিক্রির অজুহাতে খুব সহজেই ক্রেতাদের কাছে ইয়াবা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। দিনমজুরের বেশে থাকা বাহকদের কারণে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাও সহজে এদের সন্দেহ করতে পারছে না।বিভিন্ন ব্যবসার আড়ালে ডিলারদের নেটওয়ার্কশুধু শ্রমজীবী মানুষই নয়,বিভিন্ন বৈধ ব্যবসার আড়ালেও চলছে এই নিষিদ্ধ মাদক কারবার। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মোড়ের পানের দোকান মুদি দোকান, চায়ের স্টল,মোবাইল রিচার্জের দোকান এমনকি সেলুনের আড়ালেও চলছে ইয়াবার খুচরা কেনাবেচা। প্রতিটি ইউনিয়নে ছড়িয়ে থাকা ছোট ছোট ডিলাররা এসব দোকানকে তাদের ‘সেফ জোন’ বা নিরাপদ আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করছে। আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ ব্যবসা মনে হলেও পর্দার আড়ালে সেখানে দিন-রাত চলছে লাখ লাখ টাকার ইয়াবা বাণিজ্য।ইউনিয়ন পর্যায়ে ডিলারদের শক্তিশালী সিন্ডিকেট।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, কমলগঞ্জ পৌরসভা এলাকা ছাড়াও উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের (রহিমপুর, পতনঊষার, মুন্সিবাজার, শমশেরনগর, কমলগঞ্জ সদর, আলীনগর, আদমপুর, মাধবপুর ও ইসলামপুর) প্রতিটি গ্রাম ও পাড়া-মহল্লায় ছোট ছোট ইয়াবার ডিলার তৈরি হয়েছে। আগে মাদক ব্যবসা নির্দিষ্ট কিছু স্পট-কেন্দ্রিক থাকলেও, এখন ডিলাররা স্থানীয় উশৃঙ্খল যুবকদের যুক্ত করে ঘরে ঘরে ইয়াবা পৌঁছে দিচ্ছে।

চা-বাগান বেষ্টিত সীমান্ত এলাকা হওয়ায় খুব সহজেই ইয়াবার বড় বড় চালান এই উপজেলায় প্রবেশ করছে এবং পরে তা ছোট ছোট ডিলারের মাধ্যমে খুচরা পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়ছে। উপজেলায় আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে চুরি ইয়াবার এই সহজলভ্যতার সরাসরি প্রভাব পড়েছে উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর। মাদকাসক্তদের বড় অংশই বেকার তরুণ ও শিক্ষার্থী। প্রতিদিন নেশার টাকা জোগাড় করতে তারা জড়িয়ে পড়ছে নানা ।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দিনদুপুরে কিংবা রাতের আঁধারে বাড়ছে চুরি ও ছিনতাই। বাসাবাড়ির পানির পাম্প, গবাদিপশু, মোবাইল ফোন, বাইসাইকেল থেকে শুরু করে ঘরের ভেতরের আসবাবপত্র ও নগদ টাকা চুরি এখন নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে কমলগঞ্জ পৌর এলাকা,ভূমি অফিসের পাশে ও পৌর বাজারে প্রকাশ্য চলছে এই ইয়াবা ব্যবসা। এমনকি উপজেলার বিভিন্ন বাজার ও ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোতেও চোরের উপদ্রব মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের মাঝে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

বিপণনের অভিনব কৌশল ও ট্রানজিট পয়েন্টআইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে মাদক কারবারি ও ছোট ডিলাররা প্রতিনিয়ত কৌশল পাল্টাচ্ছে।

এখন আর সরাসরি টাকা ও মাদকের লেনদেন খুব একটা হয় না। মুঠোফোনে যোগাযোগের পর মোবাইল ব্যাংকিংয়ের (বিকাশ, রকেট, নগদ) মাধ্যমে টাকা পরিশোধ করা হয়। এরপর কোড নামের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কোনো পানের দোকান, চা-বাগানের নির্জন কোণ, রেললাইনের পাশ কিংবা কালভার্টের নিচে ইয়াবা লুকিয়ে রেখে ক্রেতাকে জানিয়ে দেওয়া হয়। ফলে মূল অপরাধীদের চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলার এক ইয়াবা ব্যবসায়ি জানান যারাই এ ব্যবসা করছে তারা কমলগঞ্জ থানা পুলিশের চার জন এ এস আই ও একজ এস আইকে টাকা দিয়েই চলছে এই ইয়াবা ব্যবসা। আলাপকালে স্থানীয়রা জানান প্রায়ই থানার দারগাদের প্রায়ই দেখা যায় চিহ্ন মাদক ব্যবসায়িদের সাথে রাতের আঁধারে বসে আড্ডা দিতে। এছাড়াও বলেন আমরা পুলিশকে তথ্য দেওয়ার সাথে সাথে মাদক ব্যবসায়িরা জেনে যায় ও পরিবর্তিতে আমাদের নানা কৌশলে হয়রানির শিকার হতে হয়। স্থানীয়রা আরো জনান এ ব্যবসার মূল হুতা হচ্ছে কমলগঞ্জ পৌর এলাকার আলেপুর গ্রামের তিন ভাই ও কুমড়া কাফন গ্রামের এক ব্যক্তি। যারা প্রকাশ্যই এ মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ করেছে।

অভিভাবক ও সুধীসমাজের আর্তনাদ এলাকার সচেতন মহল ও অভিভাবকরা সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তীব্র উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ঘরে জিনিসপত্র রাখার উপায় নেই, কখন চুরি হয়ে যায় সেই ভয়ে থাকতে হয়। পাড়ায় পাড়ায় বিভিন্ন পেশার আড়ালে যেভাবে ইয়াবা বিক্রি করছে, তাতে সন্তানদের বাইরে পাঠাতেও ভয় লাগে।” সচেতন নাগরিকরা মনে করেন,শুধু দু-এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে কমলগঞ্জ থানার একজন খুচরা বিক্রেতা বা মাদকসেবীকে ধরে এই মহামারি বন্ধ করা সম্ভব নয়। প্রতিটি ইউনিয়নের চিহ্নিত ডিলার ও তাদের গডফাদারদের আইনের আওতায় আনা জরুরি।

এ বিষয়ে আলপকালে কমলগঞ্জ থানার ওসি কমর উদ্দিন বলেন,পুলিশ মাদকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। ইতিমধ্যে দুটি মাদক মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং দুটি ভ্রাম্যমান অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এছাড়াও থানা পুলিশের এ এস আই,ও এস আই জড়িত রয়েছেন বলে জানতে চাইলে। কমলগঞ্জ থানার ওসি কমর উদ্দিন বলেন এগুলো সম্পূর্ণভাবে মিথ্যা আমরা প্রায় মাদকের বিরুদ্ধে সব সময়ই অভিযান পরিচালনা করছি।

ট্যাগ:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক তথ্য সম্পর্কে

জনপ্রিয়

শ্রীমঙ্গলে আইনি প্রক্রিয়ায় নিলামে কেনা জমির দখল নেওয়ার পাঁয়তারা ও অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

কমলগঞ্জে হাত বাড়ালেই মিলছে ইয়াবা: বাড়ছে চুরি,ধ্বংসের মুখে যুবসমাজ

প্রকাশিত সময় : ০২:৩০:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
269

কমলগঞ্জ : মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে মরণনেশা ইয়াবার বিস্তার। উপজেলার পৌর এলাকা থেকে শুরু করে প্রতিটি ইউনিয়নে গড়ে উঠেছে মাদক বিক্রির শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। বর্তমানে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, প্রত্যন্ত অঞ্চলেও ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যাচ্ছে ‘হট কেকের’ মতো। হাতের নাগালে মাদক পেয়ে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও তরুণ প্রজন্ম এই মরণনেশায় আসক্ত হয়ে পড়ছে। আর নেশার টাকা জোগাড় করতে উপজেলায় জ্যামিতিক হারে বাড়ছে চুরির ঘটনা, যা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকে চরম হুমকির মুখে ফেলেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কমলগঞ্জে মাদক সিন্ডিকেটের বিপণন কৌশলে এসেছে বড় পরিবর্তন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে মাদক কারবারিরা সাধারণ ও শ্রমজীবী মানুষের পেশাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে।

উপজেলার বিভিন্ন স্পটে রিকশাচালক,হকার ও দিনমজুরদের একটি অংশ এখন ইয়াবা বহনের মূল চালিকাশক্তি। রিকশায় যাত্রী বহনের আড়ালে, কিংবা রাস্তায় ঘুরে ঘুরে পণ্য বিক্রির অজুহাতে খুব সহজেই ক্রেতাদের কাছে ইয়াবা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। দিনমজুরের বেশে থাকা বাহকদের কারণে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাও সহজে এদের সন্দেহ করতে পারছে না।বিভিন্ন ব্যবসার আড়ালে ডিলারদের নেটওয়ার্কশুধু শ্রমজীবী মানুষই নয়,বিভিন্ন বৈধ ব্যবসার আড়ালেও চলছে এই নিষিদ্ধ মাদক কারবার। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মোড়ের পানের দোকান মুদি দোকান, চায়ের স্টল,মোবাইল রিচার্জের দোকান এমনকি সেলুনের আড়ালেও চলছে ইয়াবার খুচরা কেনাবেচা। প্রতিটি ইউনিয়নে ছড়িয়ে থাকা ছোট ছোট ডিলাররা এসব দোকানকে তাদের ‘সেফ জোন’ বা নিরাপদ আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করছে। আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ ব্যবসা মনে হলেও পর্দার আড়ালে সেখানে দিন-রাত চলছে লাখ লাখ টাকার ইয়াবা বাণিজ্য।ইউনিয়ন পর্যায়ে ডিলারদের শক্তিশালী সিন্ডিকেট।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, কমলগঞ্জ পৌরসভা এলাকা ছাড়াও উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের (রহিমপুর, পতনঊষার, মুন্সিবাজার, শমশেরনগর, কমলগঞ্জ সদর, আলীনগর, আদমপুর, মাধবপুর ও ইসলামপুর) প্রতিটি গ্রাম ও পাড়া-মহল্লায় ছোট ছোট ইয়াবার ডিলার তৈরি হয়েছে। আগে মাদক ব্যবসা নির্দিষ্ট কিছু স্পট-কেন্দ্রিক থাকলেও, এখন ডিলাররা স্থানীয় উশৃঙ্খল যুবকদের যুক্ত করে ঘরে ঘরে ইয়াবা পৌঁছে দিচ্ছে।

চা-বাগান বেষ্টিত সীমান্ত এলাকা হওয়ায় খুব সহজেই ইয়াবার বড় বড় চালান এই উপজেলায় প্রবেশ করছে এবং পরে তা ছোট ছোট ডিলারের মাধ্যমে খুচরা পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়ছে। উপজেলায় আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে চুরি ইয়াবার এই সহজলভ্যতার সরাসরি প্রভাব পড়েছে উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর। মাদকাসক্তদের বড় অংশই বেকার তরুণ ও শিক্ষার্থী। প্রতিদিন নেশার টাকা জোগাড় করতে তারা জড়িয়ে পড়ছে নানা ।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দিনদুপুরে কিংবা রাতের আঁধারে বাড়ছে চুরি ও ছিনতাই। বাসাবাড়ির পানির পাম্প, গবাদিপশু, মোবাইল ফোন, বাইসাইকেল থেকে শুরু করে ঘরের ভেতরের আসবাবপত্র ও নগদ টাকা চুরি এখন নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে কমলগঞ্জ পৌর এলাকা,ভূমি অফিসের পাশে ও পৌর বাজারে প্রকাশ্য চলছে এই ইয়াবা ব্যবসা। এমনকি উপজেলার বিভিন্ন বাজার ও ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোতেও চোরের উপদ্রব মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের মাঝে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

বিপণনের অভিনব কৌশল ও ট্রানজিট পয়েন্টআইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে মাদক কারবারি ও ছোট ডিলাররা প্রতিনিয়ত কৌশল পাল্টাচ্ছে।

এখন আর সরাসরি টাকা ও মাদকের লেনদেন খুব একটা হয় না। মুঠোফোনে যোগাযোগের পর মোবাইল ব্যাংকিংয়ের (বিকাশ, রকেট, নগদ) মাধ্যমে টাকা পরিশোধ করা হয়। এরপর কোড নামের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কোনো পানের দোকান, চা-বাগানের নির্জন কোণ, রেললাইনের পাশ কিংবা কালভার্টের নিচে ইয়াবা লুকিয়ে রেখে ক্রেতাকে জানিয়ে দেওয়া হয়। ফলে মূল অপরাধীদের চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলার এক ইয়াবা ব্যবসায়ি জানান যারাই এ ব্যবসা করছে তারা কমলগঞ্জ থানা পুলিশের চার জন এ এস আই ও একজ এস আইকে টাকা দিয়েই চলছে এই ইয়াবা ব্যবসা। আলাপকালে স্থানীয়রা জানান প্রায়ই থানার দারগাদের প্রায়ই দেখা যায় চিহ্ন মাদক ব্যবসায়িদের সাথে রাতের আঁধারে বসে আড্ডা দিতে। এছাড়াও বলেন আমরা পুলিশকে তথ্য দেওয়ার সাথে সাথে মাদক ব্যবসায়িরা জেনে যায় ও পরিবর্তিতে আমাদের নানা কৌশলে হয়রানির শিকার হতে হয়। স্থানীয়রা আরো জনান এ ব্যবসার মূল হুতা হচ্ছে কমলগঞ্জ পৌর এলাকার আলেপুর গ্রামের তিন ভাই ও কুমড়া কাফন গ্রামের এক ব্যক্তি। যারা প্রকাশ্যই এ মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ করেছে।

অভিভাবক ও সুধীসমাজের আর্তনাদ এলাকার সচেতন মহল ও অভিভাবকরা সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তীব্র উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ঘরে জিনিসপত্র রাখার উপায় নেই, কখন চুরি হয়ে যায় সেই ভয়ে থাকতে হয়। পাড়ায় পাড়ায় বিভিন্ন পেশার আড়ালে যেভাবে ইয়াবা বিক্রি করছে, তাতে সন্তানদের বাইরে পাঠাতেও ভয় লাগে।” সচেতন নাগরিকরা মনে করেন,শুধু দু-এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে কমলগঞ্জ থানার একজন খুচরা বিক্রেতা বা মাদকসেবীকে ধরে এই মহামারি বন্ধ করা সম্ভব নয়। প্রতিটি ইউনিয়নের চিহ্নিত ডিলার ও তাদের গডফাদারদের আইনের আওতায় আনা জরুরি।

এ বিষয়ে আলপকালে কমলগঞ্জ থানার ওসি কমর উদ্দিন বলেন,পুলিশ মাদকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। ইতিমধ্যে দুটি মাদক মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং দুটি ভ্রাম্যমান অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এছাড়াও থানা পুলিশের এ এস আই,ও এস আই জড়িত রয়েছেন বলে জানতে চাইলে। কমলগঞ্জ থানার ওসি কমর উদ্দিন বলেন এগুলো সম্পূর্ণভাবে মিথ্যা আমরা প্রায় মাদকের বিরুদ্ধে সব সময়ই অভিযান পরিচালনা করছি।