কমলগঞ্জ :মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ সদর ইউনিয়নের বনগাঁও গ্রামে পাওনা টাকা ফেরত চাওয়ায় ১নং সাক্ষী মোছা. কুলসুমা বেগমের ওপর অতর্কিত হামলা, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির ঘটনা ঘটেছে। এই বিষয়ে বনগাঁও এলাকার বাসিন্দা মো. মানিক মিয়া (৪০) বাদী হয়ে কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বরাবর চারজনকে অভিযুক্ত করে একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।
মামলার বিবাদীগণ হলেন—মো. মান্না মিয়া (৩০), এমরানুল হক মুকুল (৩৫), মোছা. হেনা বেগম (৪২) এবং মো. মহরম আলী (৫০)। তাঁরা সবাই একই এলাকার বাসিন্দা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে ১নং বিবাদী মান্না মিয়া মামলার ১নং সাক্ষী মোছা. কুলসুমা বেগমের কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা ধার নেন। দীর্ঘদিন ধরে এই টাকা পরিশোধ না করায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ শালিস করলেও বিবাদী পক্ষ তা অমান্য করে আসছিল। গত ১৬ মে ২০২৬ তারিখ দুপুর আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটের সময় ১নং সাক্ষী কুলসুমা বেগম বিবাদীদের বাড়ির সামনে গিয়ে ১নং বিবাদীর কাছে নিজের পাওনা ১৫ হাজার টাকা ফেরত চান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ১নং বিবাদী তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন।ঘটনার প্রতিবাদ করলে ১নং বিবাদীর নির্দেশে বাকি বিবাদীগণসহ সবাই মিলে কুলসুমা বেগমকে মাটিতে ফেলে এলোপাতাড়ি কিলঘুষি ও লাথি মেরে গুরুতর জখম করেন। তাঁর চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে বিবাদীগণ সাময়িকভাবে সরে যান। পরবর্তীতে ১নং বিবাদী দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে পুনরায় হামলা করতে আসলে কুলসুমা বেগম প্রাণভয়ে দৌড়ে প্রথমে ৩নং সাক্ষী হাজী সাবিরুল হক শামিম (৫৫) এবং পরে ২নং সাক্ষী মো. ফারুক মিয়া (৫৩)-এর বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেন। বিবাদীগণ সেখানেও ধাওয়া করেন এবং পরবর্তীতে সুযোগ বুঝে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যান।খবর পেয়ে বাদী মো. মানিক মিয়া দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত কুলসুমা বেগমকে উদ্ধার করে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এজাহারে বাদী উল্লেখ করেছেন যে, এই ঘটনার পর স্থানীয় বিচারক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ বিবাদীপক্ষকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা আইন ও প্রশাসনের তোয়াক্কা না করে আরও উত্তেজিত হয়ে ওঠেন এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের ক্ষতি করার হুমকি দেন। এই কারণে পারিবারিক ও সামাজিক পরামর্শের ভিত্তিতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।
প্রতিনিধি নাম 









