ঢাকা ০৬:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গাছ ও বাঁশের পর কালাছড়া বনবিট থেকে

উজাড় হচ্ছে গল্লাবেত নেপথ্যে বন ভিলেজার ও আওয়ামী নেতার পুত্রের সিন্ডিকেট,নীরব বন বিভাগ

  • প্রতিনিধি নাম
  • প্রকাশিত সময় : ০৬:০৪:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ১২০ টাইম ভিউ
140

নিজস্ব প্রতিবেদক : গাছ ও বাঁশ চুরির পাশাপাশি এবার মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের কালাছড়া বনবিট থেকে ঐতিহ্যবাহী গল্লাবেত উজাড় হয়ে যাচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, কালাছড়া বনের বন ভিলেজার ও ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মাম্মদ আলীর প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় প্রতিদিন বন থেকে নির্বিচারে গল্লাবেত পাচার করা হচ্ছে। আর এই অবৈধ কাজে তার মূল সহযোগী হিসেবে নাম এসেছে স্থানীয় আরেক আওয়ামী লীগ নেতার ছেলে হুসেন আলী ও তার সহযোগী,চিনু মিয়া,রাসেল, আকলিস মিয়া।

অনুসন্ধান ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বনের সম্পদ লুটের এই বিশাল সিন্ডিকেটটি মূলত পরিচালিত হচ্ছে বন ভিলেজার নিমাই এবং বনের হেডম্যান কালামের সরাসরি মদদ ও সহযোগিতায়। প্রভাবশালী এই চক্রের অব্যাহত বেত পাচারের কারণে বনের জীববৈচিত্র্য চরম হুমকির মুখে পড়লেও বন বিভাগ সম্পূর্ণ নীরব ভূমিকা পালন করছে।

জানা গেছে, কালাছড়া বনবিটের প্রাকৃতিক বনের অন্যতম প্রধান সম্পদ মূল্যবান গোল্লাবেত। দীর্ঘদিন ধরে একটি সিন্ডিকেট এই বনের গাছ ও বাঁশ কেটে পাচার করে আসছিল। সম্প্রতি সেই চক্রটির নজর পড়েছে বনের ভেতরের গোল্লাবেতের দিকে। প্রতিদিন দিন-দুপুরে এবং রাতের আঁধারে বনের ভেতর থেকে শত শত কাণ্ড গোল্লাবেত কেটে তা ট্রাকে করে বিভিন্ন স্থানে পাচার করা হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মাম্মদ আলী বনের ভিলেজার হওয়ার সুবাদে বনের ভেতর তার অবাধ যাতায়াত রয়েছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তিনি এবং আওয়ামী লীগ নেতার ছেলে হুসেন আলী স্থানীয় কিছু শ্রমিক দিয়ে নির্বিচারে বেত কাটাচ্ছেন। আর বন পাহারা দেওয়ার দায়িত্বে থাকা হেডম্যান কালাম এবং আরেক ভিলেজার নিমাই এই পাচার কাজের মূল সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছেন। বনের কোন এলাকা থেকে কখন বেত কাটা হবে এবং কোন পথ দিয়ে নিরাপদে বের করা হবে—তার সব গোপন তথ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করছেন নিমাই ও হেডম্যান কালাম। রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার দাপটের কারণে স্থানীয় সাধারণ মানুষ তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পান না।

সরেজমিনে জানা যায়, গল্লাবেত সাধারণত বনের ভেতরের পরিবেশ আর্দ্র রাখতে এবং বন্যপ্রাণীদের নিরাপদ আবাসস্থল হিসেবে কাজ করে। এভাবে বেত উজাড় হতে থাকলে বনের প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হবে এবং বন্যপ্রাণী খাদ্যাভাবে লোকালয়ে চলে আসার আশঙ্কা বাড়ছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্তদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তারা বিষয়টি অস্বীকার করেন।
তবে স্থানীয়রা বলছেন,হেডম্যান কালাম ও ভিলেজার নিমাইয়ের অভ্যন্তরীণ সহযোগিতা এবং মাম্মদ আলীদের রাজনৈতিক প্রভাব ছাড়া বনের ভেতর থেকে এভাবে প্রতিদিন শত শত বেত পাচার হওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

 

বিস্তারিত আরো আসছে..

ট্যাগ:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক তথ্য সম্পর্কে

জনপ্রিয়

শ্রীমঙ্গলে আইনি প্রক্রিয়ায় নিলামে কেনা জমির দখল নেওয়ার পাঁয়তারা ও অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

গাছ ও বাঁশের পর কালাছড়া বনবিট থেকে

উজাড় হচ্ছে গল্লাবেত নেপথ্যে বন ভিলেজার ও আওয়ামী নেতার পুত্রের সিন্ডিকেট,নীরব বন বিভাগ

প্রকাশিত সময় : ০৬:০৪:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
140

নিজস্ব প্রতিবেদক : গাছ ও বাঁশ চুরির পাশাপাশি এবার মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের কালাছড়া বনবিট থেকে ঐতিহ্যবাহী গল্লাবেত উজাড় হয়ে যাচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, কালাছড়া বনের বন ভিলেজার ও ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মাম্মদ আলীর প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় প্রতিদিন বন থেকে নির্বিচারে গল্লাবেত পাচার করা হচ্ছে। আর এই অবৈধ কাজে তার মূল সহযোগী হিসেবে নাম এসেছে স্থানীয় আরেক আওয়ামী লীগ নেতার ছেলে হুসেন আলী ও তার সহযোগী,চিনু মিয়া,রাসেল, আকলিস মিয়া।

অনুসন্ধান ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বনের সম্পদ লুটের এই বিশাল সিন্ডিকেটটি মূলত পরিচালিত হচ্ছে বন ভিলেজার নিমাই এবং বনের হেডম্যান কালামের সরাসরি মদদ ও সহযোগিতায়। প্রভাবশালী এই চক্রের অব্যাহত বেত পাচারের কারণে বনের জীববৈচিত্র্য চরম হুমকির মুখে পড়লেও বন বিভাগ সম্পূর্ণ নীরব ভূমিকা পালন করছে।

জানা গেছে, কালাছড়া বনবিটের প্রাকৃতিক বনের অন্যতম প্রধান সম্পদ মূল্যবান গোল্লাবেত। দীর্ঘদিন ধরে একটি সিন্ডিকেট এই বনের গাছ ও বাঁশ কেটে পাচার করে আসছিল। সম্প্রতি সেই চক্রটির নজর পড়েছে বনের ভেতরের গোল্লাবেতের দিকে। প্রতিদিন দিন-দুপুরে এবং রাতের আঁধারে বনের ভেতর থেকে শত শত কাণ্ড গোল্লাবেত কেটে তা ট্রাকে করে বিভিন্ন স্থানে পাচার করা হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মাম্মদ আলী বনের ভিলেজার হওয়ার সুবাদে বনের ভেতর তার অবাধ যাতায়াত রয়েছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তিনি এবং আওয়ামী লীগ নেতার ছেলে হুসেন আলী স্থানীয় কিছু শ্রমিক দিয়ে নির্বিচারে বেত কাটাচ্ছেন। আর বন পাহারা দেওয়ার দায়িত্বে থাকা হেডম্যান কালাম এবং আরেক ভিলেজার নিমাই এই পাচার কাজের মূল সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছেন। বনের কোন এলাকা থেকে কখন বেত কাটা হবে এবং কোন পথ দিয়ে নিরাপদে বের করা হবে—তার সব গোপন তথ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করছেন নিমাই ও হেডম্যান কালাম। রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার দাপটের কারণে স্থানীয় সাধারণ মানুষ তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পান না।

সরেজমিনে জানা যায়, গল্লাবেত সাধারণত বনের ভেতরের পরিবেশ আর্দ্র রাখতে এবং বন্যপ্রাণীদের নিরাপদ আবাসস্থল হিসেবে কাজ করে। এভাবে বেত উজাড় হতে থাকলে বনের প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হবে এবং বন্যপ্রাণী খাদ্যাভাবে লোকালয়ে চলে আসার আশঙ্কা বাড়ছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্তদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তারা বিষয়টি অস্বীকার করেন।
তবে স্থানীয়রা বলছেন,হেডম্যান কালাম ও ভিলেজার নিমাইয়ের অভ্যন্তরীণ সহযোগিতা এবং মাম্মদ আলীদের রাজনৈতিক প্রভাব ছাড়া বনের ভেতর থেকে এভাবে প্রতিদিন শত শত বেত পাচার হওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

 

বিস্তারিত আরো আসছে..