কমলগঞ্জ প্রতিনিধি : মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ি এলাকায় ১০ বছরের এক শিশুকে অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এর রহস্যজনক ভূমিকা এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা না নিয়েই ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টিকে কেন্দ্র করে জনমনে তীব্র ক্ষোভ আর চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
জানা যায়, শুক্রবার জুমার নামাজের সময় পুরুষ মানুষ না থাকার সুযোগে পাইকপাড়া ভূইগাঁও এলাকার নিজ বাড়ি থেকে ১০ বছরের শিশু নেহা চৌধুরীকে কোর্টের রায়কে অবমাননা করে সন্ত্রাসী নিয়ে ফিল্মি স্টাইলে অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে যান মা নাজিরা আক্তার রুজি ও তার সহযোগীরা। শিশুকে নিয়ে পালানোর সময় শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির সম্মুখে স্থানীয় জনতা তাদের গতিরোধ করে। এসময় শিশু নেহা চৌধুরীকে উদ্ধার করে ফাঁড়িতে পুলিশের হেফাজতে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে সরাসরি পুলিশের আশ্রয়ে যাওয়ার পরও অভিযুক্ত নারী নাজিরা আক্তার রুজি ও তার সঙ্গে থাকা উশৃঙ্খল আরও দুই নারী ও এক পুরুষ সরাসরি পুলিশের গায়ে হাত তুলেন। এক পর্যায়ে দুই পুলিশের ওপর চড়াও হয়ে গায়ে হাত তুলে তাদের একজনের পড়নের টি শার্ট ছিঁড়ে ফেলে। পুলিশকে হেনস্থা করে শিশুটিকে ছিনিয়ে নেয়ার ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুহূর্তে ভাইরাল হলে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
এছাড়া এমন জগণ্য আচরণের পরও ফাঁড়ি ইনচার্জ আইনী কোন ব্যবস্থা না নিয়ে মুচলেখার মাধ্যমে ছেড়ে দেয়ায় সাধারণ জনগণের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন,এমন নজিরবিহীন হামলার মুখেও অপহরণকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি এটা উদ্বেগজনক।
প্রত্যক্ষদর্শীরা আরো জানান, অপরাধীরা একজন সাবেক পুলিশ সদস্যের আত্নীয় ও ফাড়ির ইনচার্জ রুহুল আমিনের এলাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়া হওয়ায় পুলিশ কোন ব্যবস্থা নেয়নি।
শিশু নেহার বাবা কবির আহমেদ চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, উপস্থিত মানুষজন বারবার অভিযুক্তদের কাছে ধারালো অস্ত্র থাকার কথা জানালেও শমশেরনগর ফাঁড়ির ইনচার্জ রুহুল আমিন কোনো কার্যকর ভূমিকা পালন করেননি। উল্টো পুলিশের ওপর হামলাকারী ও অপহরণ চেষ্টায় অভিযুক্তদের নামমাত্র ‘মুচলেকা’ নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেন।
কোর্টের রায় অবমাননা করে কিভাবে শিশু নেহাকে জোর পূর্বক নেয়ার চেষ্টা করেন জানতে চাইলে, মা নাজিরা আক্তার রুজি বলেন, কোর্ট কি, আর আইন আদালত কি আমি মানিনা। আমি আমার মেয়েকে আনব, কোন কোর্ট আমার কিছু করতে পারবে না। এদিকে, পুলিশের ওপর হামলা এবং অপরাধীদের ছেড়ে দেওয়ার ভিডিও ও খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। নেটিজেনরা পুলিশের এমন নমনীয় ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করছেন এবং অবিলম্বে তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছেন।
এই বিষয়ে শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ রুহুল আমিন এধরনের ঘটনা অস্বীকার করে বলেন, একপক্ষ মৌখিক অভিযোগ করে বলেছিল প্রতিপক্ষ তাদের শিশু কন্যাকে নিয়ে যাচ্ছে। আমরা উদ্ধার করে দিয়েছি।
প্রতিনিধি নাম 









