ঢাকা ০৯:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অনুমোদন ছাড়াই মার্কেট বানালেন মৌলভীবাজারের এসপি

103

ডেস্ক রিপোর্ট : মৌলভীবাজারে যােগদানের পর থেকেই নানা বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছেন জেলা পুলিশসুপার (এসপি) বিল্লাল হোসেন। সরকারি জমিতে যথাযথ অনুমােদন ছাড়াই মার্কেট নির্মাণ এবং পুলিশলাইন্সের গরু নিয়মবহিভুতভাবে বিক্রির অভিযােগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এসব কর্মকাণ্ড নিয়ে খােদ পূলিশ সদস্যদের মধ্যেই চলছে তীব্র সমালোেচনা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, মৌলভীবাজার শহরের সাইফুর রহমান সড়কের পুরাতন সদর থানার জমিতে এসপির তত্ত্বাবধানে একটি একতলা টিনশেড মার্কেট গড়ে তোলা হয়েছে। প্রায় ১৩৫০ বর্গফুটের এই মার্কেটে ৯টি কক্ষ রয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, ৭টি কক্ষের ভাড়াটেরা ইতোমধ্যেই দোকান খোলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বাকি ২টি কক্ষ রাখা হয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির (পুনাক) এর জন্য।

শুভ নামে মার্কেটের এক ভাড়াটে জানান, ৫ বছরের জন্য ৩ লাখ টাকা অগ্রিম এবং মাসিক ৭ হাজার টাকা ভাড়ার চুক্তিতে তিনি একটি কক্ষ নিয়েছেন। এখানে দোকান নিয়ে ব্যবসা করবেন বলে জানান শুভ।

তবে সরকারি সম্পত্তিতে এমন বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের লিখিত অনুমোদন বাধ্যতামূলক হলেও, এক্ষেত্রে কোনো নিয়ম মানা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

জানা গেছে, পুলিশ সদস্যদের কল্যাণে এবং কম মূল্যে দুধ সরবরাহের জন্য পুলিশ লাইন্সে বাছুরসহ সাতটি গরু ছিল। আগের পুলিশ সুপারের সময় সদস্যরা প্রতি লিটার দুধ মাত্র ৪০ টাকায় পেতেন। কিন্তু এসপি বিল্লাস হোসেন যোগদানের পর একটি গরু মারা গেলে বাকিগুলো বিক্রি করে দেন। এর ফলে স্বল্পমূল্যে দুধ পাওয়ার সুবিধাটি বন্ধ হয়ে গেছে। যা নিয়ে পুলিশ সদস্যদের মধ্যে চাপা অসন্তোষ বিরাজ করলেও কেউ মুখ খুলতে পারছেন না।

শুধু নির্মাণ বা কেনাবেচা নয়, জনসেবামূলক উদ্যোগেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। জেলাবাসীর সুবিধার্থে আগের এসপির চালু করা আপনার ‘এসপি’ নামক ডিজিটাল সেবাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই সেবার মাধ্যমে সাধারণ মানুষ আগে সাতটি থানা থেকে সরাসরি ভিডিও কলে এসপির সঙ্গে কথা বলে সমস্যার সমাধান পেতেন। বর্তমানে সেবাটি বন্ধ থাকায় সাধারণ নাগরিকরা ভোগান্তিতে পড়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ সুপার বিল্লাল হোসেন বলেন, বড় স্থাপনা নির্মাণে হেডকোয়ার্টার্সের অনুমোদন লাগে, তবে এই মার্কেটের জন্য আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মৌখিক অনুমতি নিয়েছি। এটি পুলিশের কল্যাণেই করা হয়েছে। তবে কার কাছ থেকে অনুমতি নিয়েছেন, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কিছু বলেননি। গরু বিক্রির বিষয়ে তিনি দাবি করেন, পুলিশ লাইন্সে গরু রাখার নিয়ম না থাকায় সেগুলো বিক্রি করা হয়েছে। তবে বিক্রির প্রক্রিয়া বা অর্থের হিসাব সম্পর্কে তিনি কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দেননি।

সিলেট রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি (ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট) নাছির উদ্দিন আহমেদ জানান, এ ধরনের কোনো মার্কেট নির্মাণের অনুমতির বিষয়ে তিনি অবগত নন। অনুমোদন দেওয়া হলে তার জানার কথা ছিল।

একই কথা জানান পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রেভিনিউ শাখার অ্যাডিশনাল ডিআইজি মো. আজিজুল ইসলাম। তিনি বলেন, মার্কেট নির্মাণের কোনো অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে আমাদের জানা নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ২৯ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে বিল্লাল হোসেন মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদান করেন। এরপর থেকেই একের পর এক নিয়মবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠতে শুরু করে।

সূত্র-ডিবিসি

ট্যাগ:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক তথ্য সম্পর্কে

জনপ্রিয়

শ্রীমঙ্গলে আইনি প্রক্রিয়ায় নিলামে কেনা জমির দখল নেওয়ার পাঁয়তারা ও অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

অনুমোদন ছাড়াই মার্কেট বানালেন মৌলভীবাজারের এসপি

প্রকাশিত সময় : ০৬:৫৯:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬
103

ডেস্ক রিপোর্ট : মৌলভীবাজারে যােগদানের পর থেকেই নানা বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছেন জেলা পুলিশসুপার (এসপি) বিল্লাল হোসেন। সরকারি জমিতে যথাযথ অনুমােদন ছাড়াই মার্কেট নির্মাণ এবং পুলিশলাইন্সের গরু নিয়মবহিভুতভাবে বিক্রির অভিযােগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এসব কর্মকাণ্ড নিয়ে খােদ পূলিশ সদস্যদের মধ্যেই চলছে তীব্র সমালোেচনা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, মৌলভীবাজার শহরের সাইফুর রহমান সড়কের পুরাতন সদর থানার জমিতে এসপির তত্ত্বাবধানে একটি একতলা টিনশেড মার্কেট গড়ে তোলা হয়েছে। প্রায় ১৩৫০ বর্গফুটের এই মার্কেটে ৯টি কক্ষ রয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, ৭টি কক্ষের ভাড়াটেরা ইতোমধ্যেই দোকান খোলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বাকি ২টি কক্ষ রাখা হয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির (পুনাক) এর জন্য।

শুভ নামে মার্কেটের এক ভাড়াটে জানান, ৫ বছরের জন্য ৩ লাখ টাকা অগ্রিম এবং মাসিক ৭ হাজার টাকা ভাড়ার চুক্তিতে তিনি একটি কক্ষ নিয়েছেন। এখানে দোকান নিয়ে ব্যবসা করবেন বলে জানান শুভ।

তবে সরকারি সম্পত্তিতে এমন বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের লিখিত অনুমোদন বাধ্যতামূলক হলেও, এক্ষেত্রে কোনো নিয়ম মানা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

জানা গেছে, পুলিশ সদস্যদের কল্যাণে এবং কম মূল্যে দুধ সরবরাহের জন্য পুলিশ লাইন্সে বাছুরসহ সাতটি গরু ছিল। আগের পুলিশ সুপারের সময় সদস্যরা প্রতি লিটার দুধ মাত্র ৪০ টাকায় পেতেন। কিন্তু এসপি বিল্লাস হোসেন যোগদানের পর একটি গরু মারা গেলে বাকিগুলো বিক্রি করে দেন। এর ফলে স্বল্পমূল্যে দুধ পাওয়ার সুবিধাটি বন্ধ হয়ে গেছে। যা নিয়ে পুলিশ সদস্যদের মধ্যে চাপা অসন্তোষ বিরাজ করলেও কেউ মুখ খুলতে পারছেন না।

শুধু নির্মাণ বা কেনাবেচা নয়, জনসেবামূলক উদ্যোগেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। জেলাবাসীর সুবিধার্থে আগের এসপির চালু করা আপনার ‘এসপি’ নামক ডিজিটাল সেবাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই সেবার মাধ্যমে সাধারণ মানুষ আগে সাতটি থানা থেকে সরাসরি ভিডিও কলে এসপির সঙ্গে কথা বলে সমস্যার সমাধান পেতেন। বর্তমানে সেবাটি বন্ধ থাকায় সাধারণ নাগরিকরা ভোগান্তিতে পড়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ সুপার বিল্লাল হোসেন বলেন, বড় স্থাপনা নির্মাণে হেডকোয়ার্টার্সের অনুমোদন লাগে, তবে এই মার্কেটের জন্য আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মৌখিক অনুমতি নিয়েছি। এটি পুলিশের কল্যাণেই করা হয়েছে। তবে কার কাছ থেকে অনুমতি নিয়েছেন, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কিছু বলেননি। গরু বিক্রির বিষয়ে তিনি দাবি করেন, পুলিশ লাইন্সে গরু রাখার নিয়ম না থাকায় সেগুলো বিক্রি করা হয়েছে। তবে বিক্রির প্রক্রিয়া বা অর্থের হিসাব সম্পর্কে তিনি কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দেননি।

সিলেট রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি (ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট) নাছির উদ্দিন আহমেদ জানান, এ ধরনের কোনো মার্কেট নির্মাণের অনুমতির বিষয়ে তিনি অবগত নন। অনুমোদন দেওয়া হলে তার জানার কথা ছিল।

একই কথা জানান পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রেভিনিউ শাখার অ্যাডিশনাল ডিআইজি মো. আজিজুল ইসলাম। তিনি বলেন, মার্কেট নির্মাণের কোনো অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে আমাদের জানা নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ২৯ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে বিল্লাল হোসেন মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদান করেন। এরপর থেকেই একের পর এক নিয়মবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠতে শুরু করে।

সূত্র-ডিবিসি